দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এসব কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে বেশি দামে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর চাপ কমবে।
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে এবং ৩১ নম্বর কূপের খনন চলছে। ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হলে একই রিগ ব্যবহার করে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে।
গভীর স্তরে গ্যাসের সন্ধান
বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে তিতাসের গভীরতম স্তরে কী আছে, তা জানার জন্যও এই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজিএফসিএলের জরিপে ওই এলাকায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য মজুতের হিসাব; খনন ও অনুসন্ধানের ফল না পাওয়া পর্যন্ত ওই পরিমাণ গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
মাহমুদুল নবাব বলেন, কারিগরি জটিলতা না হলে ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে খনন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ৩১ নম্বর কূপটির খনন শুরু হয়। কূপটি পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার খনন শেষ হয়েছে।
বিজিএফসিএলের তথ্য অনুযায়ী, তিতাসে এর আগে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। নতুন কূপটির মাধ্যমে এর নিচের গভীর স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পুরোনো কূপে কমছে উৎপাদন
বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর গ্যাসের মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় এসব কূপ থেকে উৎপাদনও কমেছে।
নতুন কূপগুলো সফল হলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্যাস সরবরাহে অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন কূপ থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা অনুসন্ধান ও উৎপাদন পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করবে।
ছয় দশকের পুরোনো তিতাস
১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় উৎপাদনের পর পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও উৎপাদনক্ষমতা কমে আসায় নতুন কূপ খনন এবং গভীর স্তরে অনুসন্ধানকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।