তিস্তার পানি বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

teesta_river_lalmonirhat.jpg
তিস্তা ব্যারেজ। ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে উত্তরাঞ্চলের নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে কিছুটা কমে যায়। তবে রাতে আবার পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ ওই সময় পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। সকাল ৮টার পর পানি কমতে শুরু করে। দুপুর ৩টায় পানির উচ্চতা নেমে আসে ৫১ দশমিক ৯৬ মিটারে, যা বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলের পানি তিস্তায় আসছে। রাতে পানি আবার বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তিস্তাপাড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত তীব্র না হলে বন্যা না-ও হতে পারে।

নিচু এলাকায় পানি, কৃষকদের উদ্বেগ

উজানে পানি বাড়ার পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে তিস্তাপাড়ের কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি ঢোকার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলপাইগুড়ির খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকান্তনগর কলোনি, জগন্নাথপুর, বাঘপোতা ও মানসতলার নিচু এলাকার সড়ক, কৃষিজমি ও ফুটবল মাঠে পানি জমেছে এবং জগন্নাথপুরের কয়েকটি বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।

পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষিজমিতে পানি ওঠায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তাপাড়েও পানিও নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর গোকুণ্ডা এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চর এলাকায় সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। তবে আগাম আমন ধান চাষ করা হয়েছে এবং তিস্তায় পানি বাড়ায় কিছু আমনখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিস্তাপাড়ে অকাল বন্যা না হলে চরাঞ্চল থেকে এবার ভালো পরিমাণ ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পানি কমলেও ঝুঁকি কাটেনি

শনিবার বিকেলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। কারণ, উজানের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তায় পানির উচ্চতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

পাউবোর হিসাবে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীর পানির উচ্চতা এবং উজানের বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের ওপর তিস্তাপাড়ের ঝুঁকি অনেকটাই নির্ভর করছে।